দিয়া মির্জার ভিডিও সরানোর ঘটনায় বম্বে হাইকোর্টের অসন্তোষ

Published: November 3, 2026, 1:36 pm

বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার পরিবেশবান্ধব দীপাবলি উদ্‌যাপনের প্রচারণামূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বম্বে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি জি এস কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোকালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এই ঘটনাকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী ও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তিকে উৎসব উদ্‌যাপন কিংবা পরিবেশ সুরক্ষার সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নেওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। পরিবেশ রক্ষার মতো একটি উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া উচিত নয় বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (বিএমসি) পরিবেশবান্ধব দীপাবলি প্রচারণার অংশ হিসেবে এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে বিজেপি নেতাদের আপত্তির মুখে গত রোববার বিএমসি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেয়।

হাইকোর্টের মতে, দিয়া মির্জার এই ভিডিওতে সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা ছিল। দূষণ কমানো ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানোই উচিত। আদালত প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে বাস করি না? একজন মানুষ সচেতনতা তৈরির প্রচারে অংশ নিলে তাঁকে কেন আলাদা করে নিশানা করা হবে? একই সঙ্গে বেঞ্চ বিএমসির কমিশনারকে ভিডিওটি পুনরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে মুম্বাইয়ের বিজেপি প্রধান অশ্বিনী ভিডে মন্তব্য করেছিলেন যে, দীপাবলি কীভাবে উদ্‌যাপন করতে হবে সে বিষয়ে দিয়া মির্জার কাছ থেকে তাঁদের শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এছাড়া মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে অভিনেত্রীকে ‘হিন্দুবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন যে, দিয়া সব সময় বিভাজন সৃষ্টিকারীদের পক্ষ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়েও সমালোচনা করেছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে বিএমসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। মুম্বাই কংগ্রেসের সভাপতি বর্ষা গায়কোয়াড়ের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে দাবি করেছেন, পরিবেশ সুরক্ষার নামে শুধু হিন্দু উৎসবকে নিশানা করা হচ্ছে।

এদিকে দিয়া মির্জা জানিয়েছেন, বিএমসির এই প্রচারণার ভিডিও তৈরির জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি। তিনি বলেন, আমি কোনো টাকা নিইনি। ভালো কাজের কদর করার সময়ই যেন আর নেই। পরে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেত্রী বলেন, বম্বে হাইকোর্ট ও বিএমসির জনস্বার্থমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তিনি ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন। বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়, তাই দূষণ কমানোর সব প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো উচিত। উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আতশবাজি পোড়ানোর বিষয়ে বম্বে হাইকোর্ট বিধিনিষেধ আরোপ করার পরই বিএমসি নাগরিকদের পরিবেশবান্ধব দীপাবলি উদ্‌যাপনে উৎসাহিত করতে এই প্রচার শুরু করেছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo