দেশের নাগরিকদের দৃষ্টি ত্রুটি ও অন্ধত্ব দূরীকরণে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি মানসম্মত চশমা বিতরণ এবং ১০ লাখ চোখের ছানি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ব চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলনে এক ভিডিও বক্তব্যে এ অঙ্গীকারের কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। একই মেয়াদের মধ্যে প্রসারিত জাতীয় রেফারেল সুবিধার আওতায় এনে দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষকে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা সরকারের আয়োজনে চক্ষু স্বাস্থ্য বিষয়ক এই বৈশ্বিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে। সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
বক্তব্যে ডা. এম এ মুহিত উল্লেখ করেন, প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিহীনতা কেবল একটি মানবিক সংকটই সৃষ্টি করে না, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং নাগরিকদের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য চোখের সুস্থ দৃষ্টি অপরিহার্য।
সম্মেলনে প্রতিশ্রুতির বিবরণ দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার চোখের স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এর আওতায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। নাগরিকদের জন্য সার্বজনীন চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশি-বিদেশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে বলেও প্রত্যয় প্রকাশ করেন তিনি।





