ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তাল দিল্লি, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি

Published: November 2, 2026, 5:27 am

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হাজারো মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভটি আয়োজিত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি মোদির হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য করা হচ্ছে।

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ওই সমাবেশে রাহুল গান্ধী বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়া মানেই তাদের ভোটাধিকার এবং মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে এবং দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হিসেবে তার অপসারণ জরুরি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সংশোধনের মাধ্যমে ১৩ কোটির বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বিরোধী দলগুলোর দাবি, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো তালিকা থেকে ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকা হালনাগাদ করা। ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের এই অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, তারা বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এই বিক্ষোভকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন যে, গণতন্ত্রের নামে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রামলীলা ময়দান ও এর আশেপাশের এলাকায় শত শত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন ও বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধানের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসার পর এই আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy