নির্বাচনের পরদিন ইরানে হামলার ছক, মিত্রদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

Published: October 31, 2026, 3:59 pm

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ আগামী ৪ নভেম্বর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এই সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে ওয়াশিংটন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে এবং তাদের সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসনাউ-এর প্রতিবেদনে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই হামলাটি স্বল্পস্থায়ী হলেও বেশ তীব্র হবে। তবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো এই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ ইরানে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে আপত্তি জানাতে পারে।

গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে নতুন কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে নতুন করে সামরিক অভিযান না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি ইরানে সামরিক অভিযান না চালানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যেকোনো শত্রুপক্ষের হুমকির তাৎক্ষণিক জবাব দিতে হবে। খামেনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এ ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মানা হবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় আট মাস ধরে চলমান এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin