নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনছে ইরান

Published: October 30, 2026, 5:52 am

কঠোর মার্কিন নৌ অবরোধ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা সত্ত্বেও ইরান তার সামরিক শক্তি সংগ্রহের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে দেশটি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করেছে। এই আমদানিকৃত সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে হার্ডওয়্যার, বিস্ফোরক এবং ভারী ট্রাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি সংস্থা ছদ্মবেশে এই বিশাল আমদানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এই সংস্থাগুলো বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এক গোপন সামরিক-আর্থিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। ২০১৬ সাল থেকেই শিপিং নথিতে তাদের আর্থিক কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) এবং অভিজাতদের নিয়ন্ত্রিত ‘বনিয়াদ’ নামের ব্যবসায়িক কনগ্লোমারেটগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আইআরজিসি কীভাবে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের পরও তাদের মজুত অটুট রাখতে পারছে, এই অনুসন্ধানে তার উত্তর মিলেছে।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে ‘এমওডি ৩৪৬৪২৮’ নামক একটি সংস্থা প্রচুর পরিমাণে রকেটের জ্বালানি, বিস্ফোরক এবং অস্ত্রের যন্ত্রাংশ আমদানি করেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কাজে ব্যবহৃত ভারী ট্রাকও তারা কিনেছে। এই সরঞ্জামগুলো স্থল, নৌ এবং আকাশপথে ইরানে প্রবেশ করেছে, যার বেশিরভাগই এসেছে চীন, রাশিয়া এবং জার্মানি থেকে।

হাজার হাজার ব্যাংক নথি, সরকারি রেকর্ড এবং কোম্পানির তথ্য ঘেঁটে এই গোপন নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই ছদ্মবেশী সংস্থাগুলোর বেশিরভাগই ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও কাগজে-কলমে তাদের প্রতিষ্ঠার তারিখ দেখানো হয়েছে ১৯৭৯ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি—যেই দিন আয়াতুল্লাহ খোমেনি ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। তাদের নিবন্ধিত ঠিকানাও ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঠিকানার সঙ্গে মিলে যায়।

এই সংস্থাগুলো মূলত একদল ফ্রন্টম্যান এবং বিদেশি শেল কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করে, যাদের ‘ট্রাস্টি’ বলা হয়। তারা অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে এসব সরঞ্জাম কেনে। মার্কিন অর্থ বিভাগের এক সাবেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি ইরানের সামরিক বাণিজ্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করছে, যা দিয়ে তারা মার্কিন সামরিক হামলা মোকাবিলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ পরিচালনা করছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin