স্পেনের কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের উর্দা শহরের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে ঘটা এই দুর্ঘটনায় আরও ১০৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উদ্ধারকর্মীরা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগির ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনো নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন মাদ্রিদ থেকে আন্দালুসিয়ার দিকে যাত্রা করা দুটি দ্রুতগতির ট্রেন একই রেলপথে চলছিল। ইরিও নামক বেসরকারি কোম্পানির একটি ট্রেন মাঝপথে থেমে গেলে, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের অপর একটি ট্রেন সেটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রেন দুটির বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় ট্রেন দুটিতে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন।
এই প্রাণহানির ঘটনায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। এই সময়ে সরকারি ভবন ও নৌযানগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে দুর্ঘটনার আগে রেলপথের স্বয়ংক্রিয় সংকেতব্যবস্থা এলজেডবি কম্পিউটারজনিত ত্রুটির কারণে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। এর ফলে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে অন্তত দুটি ট্রেনকে পুনরায় যাত্রা শুরুর নির্দেশ দেওয়া হলেও, সামনে থামার সংকেত থাকা সত্ত্বেও কেন এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবহনমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে ভুল ও ব্যাখ্যাতীত বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
নিখোঁজ যাত্রীদের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ মাদ্রিদ, তোলেদো, কর্দোবা ও সেভিয়ায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৬৪ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গিয়েছিল। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি রেড ক্রসের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মানসিক সহায়তা দিচ্ছেন।
চলতি বছরে এটি স্পেনে দ্বিতীয় বড় রেল দুর্ঘটনা। জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনের আদামুজে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এ ঘটনার পর বিরোধী দল পিপির নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি পুরো রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। রেলকর্মীদের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তায় আরও বিনিয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ ও তদন্তকারীরা সংকেত ব্যবস্থার ত্রুটি এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।





