যৌনতার গল্প বলা এখনো যেন ‘ডিমের ওপর হাঁটা’: রাধিকা আপ্তে

Published: September 19, 2026, 9:11 am

ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রেম, সম্পর্ক, নারীর আকাঙ্ক্ষা ও যৌনতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ হচ্ছে। তবে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় নির্মাতাদের এখনো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়, যা অনেকটা ‘ডিমের ওপর হাঁটার’ মতো। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ অ্যান্থলজি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাধিকা ভারতীয় সিনেমায় নারীর যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা ও সম্পর্কের গল্প বলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে মানুষ খুব দ্রুত ক্ষুব্ধ বা আপত্তি প্রকাশ করে বসে। শিল্পের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সংকট তৈরি করে। কারণ, একজন শিল্পী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তাঁর তৈরি কাজের কোন অংশটি কার মনে আঘাত দিয়েছে। রাধিকা মনে করেন, এই সমস্যা কেবল যৌনতার গল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অভিনেতাদের কাজ ও সমাজের তৈরি করা নৈতিকতার ধারণাও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ব্যক্তিগত ‘গ্রহণযোগ্যতার’ বাইরে গেলেই সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে, যার ফলে শিল্পীদের অনেক হিসাব-নিকাশ করে গল্প বলতে হয়।

রাধিকা আপ্তে অবশ্য মনে করেন না যে দর্শক এ ধরনের গল্প দেখতে চান না। তাঁর মতে, দর্শক, নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী—সব পক্ষই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সামাজিক ও নৈতিক নানা চাপের কারণে এই পরিবর্তন সহজে আসে না। বিশেষ করে ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নৈতিক খবরদারি এখনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গল্পটি দর্শক গ্রহণ করবেন কি না, তার চেয়েও বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় যে এটি সমাজের প্রচলিত নৈতিকতার সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়াচ্ছে কি না।

আজ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’। প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও জটিল সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই অ্যান্থলজিতে রয়েছে চারটি গল্প। এগুলো পরিচালনা করেছেন বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে, কিরণ রাও, শকুন বাত্রা ও বিশাল ভরদ্বাজ। রাধিকার গল্পটিতে সম্পর্কের জটিলতা ও আবেগের টানাপোড়েন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নিজের চরিত্র নিয়ে রাধিকা জানান, গল্পটির মধ্যে এক ধরনের বিষাদ ও ট্র্যাজেডি রয়েছে, যেখানে চরিত্রগুলো হারানোর বা বদলে যাওয়ার ভয়ে নিজেদের অনুভূতিই ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারে না। তবে এই টানাপোড়েনের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত বন্ধুত্বই গল্পটিকে ধরে রাখে। এই প্রজেক্টে আবারও বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের পরিচালনায় কাজ করেছেন রাধিকা। তাঁর সঙ্গে সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন কঙ্কনা সেন শর্মা ও বিজয় ভার্মা। তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে দারুণ উপভোগ্য ও আনন্দের বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে রাধিকা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও স্বামী ডেরেকের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও কথা বলেন। সাধারণত সম্পর্কের মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা ‘স্পেস’ দাবি করে নিতে হয় বলে যে ধারণা রয়েছে, রাধিকার ক্ষেত্রে তা ভিন্ন। তিনি জানান, তাঁদের সম্পর্কে একে অপরকে মানসিক নিরাপত্তার অনুভূতি দেওয়াটাই স্বাভাবিকভাবে আরও বেশি স্বাধীনতার জায়গা তৈরি করেছে। তাঁদের মধ্যে কোনো ঈর্ষার জায়গা নেই, কারণ প্রয়োজন হলে তাঁরা নিজেদের চাহিদার কথা একে অপরকে সরাসরি বলতে পারেন। এই মানসিক নিরাপত্তাই তাঁদের একসাথে পথচলা ও ব্যক্তিগত পরিসরের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo