ভারতের উপকূলে আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

Published: October 28, 2026, 2:32 am

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড়টি দ্রুতগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে এটি স্থলভাগ অতিক্রম করার পূর্বাভাস দিয়েছিল। ইতিমধ্যে ঝড়টির বাইরের মেঘমালা স্থলভাগে প্রবেশ করেছে এবং এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া বইছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের নারসাপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ঝড়টি ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। বুধবার সকালে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল এবং ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে এর স্থলভাগ অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে এবং সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকবে। এছাড়া কাকিনাড়া ও ইয়ানামের আশপাশে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার এবং গোদাবরী নদীর মোহনায় ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে অন্তত ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০টি জেলায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ১০০ চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে। মাছ ধরার ৩০ হাজারের বেশি নৌযানকেও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃস অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ চলাকালে উপকূলীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, অর্ণবের প্রভাবে প্রতিবেশী ওডিশার উপকূলীয় এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সেখানেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘূর্ণিঝড়টির পুরো স্থলভাগ অতিক্রম শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh