রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান এল

Published: October 27, 2026, 6:41 am

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের আরও একটি বড় চালান সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে এই ৪১ টন ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে ভারতের দিল্লি হয়ে জ্বালানিবাহী একটি উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আভিয়াকন জিতোট্রান্স পরিচালিত এজেডএস-৬৭১৩ ফ্লাইটে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন ইউরেনিয়াম আনা হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানির এই চালানটি বুঝে নেন।

জ্বালানি পরিবহনের সময় সড়কপথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঢাকা থেকে রূপপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা লরিগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। যাত্রাপথে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এছাড়া সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। যানজট এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান চালানটি দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সরবরাহ করা তৃতীয় চালান। এর আগে গত ২১ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালানের জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছিল। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য আলাদাভাবে আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, রাশিয়া প্রথম তিন বছর কেন্দ্রটির জন্য জ্বালানি সরবরাহ করবে, এরপর প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাংলাদেশকে আমদানি করতে হবে।

এদিকে, প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনব্যবস্থার ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হলেও, গত ১১ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনক্রমে চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি 'পাওয়ার স্টার্টআপ' বা স্টেজ-সি ধাপে প্রবেশ করবে। সব পরীক্ষা সফল হলে আগামী নভেম্বরেই প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারটি চালানে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় পরপর চুল্লির ব্যবহৃত জ্বালানির একাংশ পরিবর্তন করতে হয়। এ কারণে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান গত ৩ অক্টোবর রূপপুরে আনা হয়। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের দ্বিতীয় চালানের জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh