সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার স্বচালিত কামান, বাড়ছে সামরিক উত্তেজনার শঙ্কা

Published: October 26, 2026, 10:51 am

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার জিম্পো এলাকার একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার তিনটি ১২২ মিলিমিটারের স্বচালিত কামানবাহী সাঁজোয়া যান শনাক্ত করেছেন রয়টার্সের এক প্রতিনিধি। সীমান্তের কাছে এ ধরনের ভারী অস্ত্র প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

পর্যবেক্ষণকৃত যানগুলোর কামানের নল দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে তাক করা ছিল। একই সময়ে অসামরিকীকৃত অঞ্চলের (ডিএমজেড) ভেতরে ২০ থেকে ৩০ জন উত্তর কোরীয় সেনাকে বেড়া নির্মাণের কাজ করতে দেখা গেছে। সিউলের কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল এই ঘটনাকে অস্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পিয়ংইয়ং আলোচনার পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সীমান্তনীতি কার্যকর করার বার্তা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ এড়াতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক থাকার ইঙ্গিতও দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

কূটনৈতিক পর্যায়েও দুই দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাল্টাপাল্টি চিঠি পাঠিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, রোববার জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে পিয়ংইয়ং অভিযোগ করেছে, সেপ্টেম্বরের স্থলমাইন বিস্ফোরণকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সীমান্ত নির্মাণকাজকে সামরিক অনুপ্রবেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। চিঠিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে উত্তর কোরিয়া আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেবে এবং এর দায়ভার দক্ষিণ কোরিয়াকেই নিতে হবে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা উত্তর কোরীয় সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, যা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

এর আগে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ করে যে, ২১ সেপ্টেম্বর অসামরিকীকৃত অঞ্চলে বিস্ফোরিত স্থলমাইনটি উত্তর কোরীয় সেনারা পুঁতেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, এটি কোরীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। অঞ্চলটির তদারকিতে থাকা জাতিসংঘ কমান্ডও একই মত প্রকাশ করেছে, যদিও পিয়ংইয়ং এই দায় অস্বীকার করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার চিঠিতে মূলত তাদের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং সীমান্ত চিহ্নিত করার কাজকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সাঁজোয়া যান মোতায়েনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, উত্তর কোরীয় সেনারা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করলে তাদের সতর্ক করতে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরীয় সেনারা সীমান্তের কাছে কৌশলগত সড়ক ও বেড়া নির্মাণ এবং স্থলমাইন পুঁতে রাখার কাজ করছে। ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সীমান্তের কাছাকাছি কেপুং কাউন্টির উপকূলেও উত্তর কোরীয় সেনাদের সামরিক মহড়া চালাতে দেখা গেছে।

২০১৫ সালেও অনুরূপ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের সমঝোতায় শেষ হয়। বর্তমান পরিস্থিতি নিরসনে দক্ষিণ কোরিয়া আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin