এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কি আমাদের চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে

Published: October 26, 2026, 8:20 am

আজকের দিনে ফোন নম্বর মুখস্থ রাখার অভ্যাস বা ক্যালকুলেটর ছাড়া হিসাব করার প্রবণতা—সবই যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির প্রভাবের এক বড় ইঙ্গিত বহন করে। সাদিয়া (ছদ্মনাম) নামের একজন কর্মীর অভিজ্ঞতা বিষয়টি পরিষ্কার করে। তিনি অফিসের একটি রিপোর্ট তৈরির জন্য এআইকে নির্দেশ দিলেন, ‘পুরোটা লিখে দাও।’ মাত্র ১০ মিনিটেই কাজটি শেষ হয়ে গেল। কিন্তু পরদিন বস যখন সেই রিপোর্টের কোনো সংখ্যা বা তথ্যের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলেন, তখন সাদিয়া কোনো উত্তর দিতে পারলেন না।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'কগনিটিভ অফলোডিং' বা চিন্তার বোঝা যন্ত্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যদিও এটি কাজকে সুবিধাজনক করে তোলে, তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও মৌলিক চিন্তার চর্চাকে কমিয়ে দিতে পারে। জিপিএসের উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া দোষের নয়, তবে পথ চেনার দায়িত্ব নিজের কাছে রাখলে বিপদে পড়ার ঝুঁকি কমে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম।

এআই আপনার মস্তিষ্কের সহকারী হতে পারে, কিন্তু কখনোই এর বিকল্প নয়। আমরা তাকে দিয়ে চিন্তা করাব, নাকি চিন্তা করতে তার সাহায্য নেব—এই সিদ্ধান্তটি আমাদেরই নিতে হবে। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, এআইকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগে নিজে ভাবুন। দ্বিতীয়ত, এআইয়ের দেওয়া উত্তর না বুঝে বা যাচাই না করে কাউকে পাঠাবেন না, কারণ তথ্যের দায়ভার আপনার ওপরই বর্তাবে। তৃতীয়ত, পেশির ব্যায়ামের মতো মস্তিষ্কের সক্ষমতা ধরে রাখতে সপ্তাহে অন্তত একদিন এআই ছাড়াই কাজ করার চেষ্টা করুন। যন্ত্র সাহায্য করুক, কিন্তু বুঝে নেওয়ার দায়িত্বটা থাকুক নিজের হাতেই।

প্রশ্নগুলো ছোট, কিন্তু এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বড় ইঙ্গিত।রাত ৯টায় সাদিয়া (ছদ্মনাম) অফিসের একটা রিপোর্টের জন্য এআইকে বললেন, ‘পুরোটা লিখে দাও।’ ১০ মিনিটেই কাজ শেষ।

কিছুটা সুবিধাজনক, কিন্তু অতিরিক্ত হলে নিজের বিচারবুদ্ধি ও মৌলিক চিন্তার চর্চা কমে যেতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করছেন।.১.

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo