ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের নজিরবিহীন বিরোধ

Published: October 26, 2026, 6:15 am

ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে নজিরবিহীন বিরোধ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর দেয়া এই সামরিক নির্দেশ বাস্তবায়নে আপত্তি জানিয়েছেন সেনাপ্রধান। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে ইরানের সঙ্গে দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোববার ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চ্যানেল ১২-এর তথ্যানুযায়ী, নেতানিয়াহুর নির্দেশিত সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন জামির। তিনি এই অভিযানের বিষয়ে আরও আলোচনা এবং আইনি অনুমোদনের জন্য লিখিত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষর চেয়েছেন। তবে ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং প্রতিবেদনটি ইসরাইলের সামরিক সেন্সরশিপের বিধিনিষেধ মেনেই সম্প্রচার করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপটি এমন একটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিস্তার ঘটাতে পারে। এমন এক সংবেদনশীল ও নাটকীয় মুহূর্তে এই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে যখন ভুল হিসাব-নিকাশের আশঙ্কা প্রবল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলোর মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনী সুবিধা লাভের জন্য ইরান ইস্যুকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

রোববার পালমাহিম বিমানঘাঁটিতে এক আলোচনার সময় নেতানিয়াহু ও জামিরের মধ্যকার উত্তেজনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং বৈঠককক্ষের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত তিক্ত। এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জামির যে ভূমিকা পালন করেছেন তা ইতিহাস মনে রাখবে। এর আগে বৃহস্পতিবার চ্যানেল ১৩ জানায়, এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জামির স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর কোনো সামরিক প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না। তিনি আরও বলেন, যদি ভবিষ্যতে ইরানে হামলার প্রয়োজন হয়, তবে তা সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে করা হবে।

এদিকে চ্যানেল ১৪-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই বিরোধের খবরকে ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। তবে একই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি আইডিএফ ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ইরানের সরকার উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এই নির্দেশের সঙ্গে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর চেষ্টা করছেন, যাতে নির্বাচনে তার সম্ভাবনা বাড়ে কিংবা ভোট পেছানো যায়। তবে নেতানিয়াহু এ ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কথা অস্বীকার করেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin