রাজশাহীতে আয়োজিত জেলা মাসিক রাজস্ব সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ভূমি সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি, অযথা বিলম্ব কিংবা অনিয়মের শিকার না হন। সরকারি রাজস্ব আদায়ে গাফিলতি, ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, খাসজমি ব্যবস্থাপনা, সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সরকারি জমি ও সম্পত্তি রক্ষায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না এবং প্রতিটি কাজ নির্ধারিত আইন ও বিধিবিধান মেনেই সম্পন্ন করতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
সম্মেলনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বেলায়েত হোসেন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিত সরকার (এসএ শাখা, ভিপি শাখা), রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব প্রশাসনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় সরকারি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ভূমিসংক্রান্ত সেবার মানোন্নয়ন, সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন, জনসাধারণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা এবং ভূমিসেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো রাজশাহীর ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করা এবং ডিজিটাল ভূমিসেবার কার্যকর বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।





