সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানের দেওয়া দুটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’—এই দুটি পোস্ট দেন।
পোস্টগুলো নজরে আসার পর পুলিশসহ অন্যরা দ্রুত এসিল্যান্ডের সরকারি বাসভবনে ছুটে যান। সেখানে তাঁকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানান, এসিল্যান্ডকে দেখে মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে হয়েছে। সে সময় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। স্ত্রীর পরামর্শে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলেও কাজ হয়নি। ইনজেকশন দেওয়ার ব্যবস্থাও করা সম্ভব হয়নি। পরে রাত একটার দিকে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।
প্রাথমিকভাবে তাঁকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন।
ঘটনা সম্পর্কে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক প্রথম আলোকে জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কেক কাটার অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন। বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই তিনি ওই ফেসবুক পোস্ট দেন। তিনি আরও বলেন, পোস্ট দেওয়ার ছয় মিনিট আগেও আরিফুর তাঁর বাসায় ছিলেন এবং তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না কেন এমন পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
এসিল্যান্ডের স্ত্রীর বরাত দিয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানান, আরিফুর রহমান আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিন দিন আগে উপজেলায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দেখার পর থেকেই তিনি ট্রমাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় তিনি একজন আনসার সদস্যকে মারধর করেছেন, ইউএনওর মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন এবং রাস্তায় লোকজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।
আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। ইউএনও শিল্পী রানী মোদক জানিয়েছেন, বিষয়টি রাতেই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।





