আন্তর্জাতিক অডিটের আগে অরক্ষিত কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে

Published: October 24, 2026, 3:36 am

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর দ্বারপ্রান্তে থাকা কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমুদ্রের বুকে সম্প্রসারিত রানওয়ের 'ক্যাটাগরি-২ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের' বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বারবার চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা অস্বস্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত ৭ অক্টোবর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) ১৪তম সভায় এই চুরির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়। সভায় বিমানবন্দরের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, রানওয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই লাইটিং সিস্টেমের সরঞ্জাম বারবার চুরি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নথিতেও এই নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

তবে এত স্পর্শকাতর একটি স্থাপনায় বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কক্সবাজার সদর মডেল থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মৌখিক বা লিখিত কোনোভাবেই তাদের বিষয়টি জানায়নি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম এই ঘটনাকে চরম নিরাপত্তা-ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আইকাওর অডিটের প্রাক্কালে এ ধরনের ঘটনা দেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। সমুদ্রের বুকে স্থাপিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো স্পর্শকাতর স্থানে শৈথিল্যের কোনো অবকাশ নেই এবং দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল জানান, এনসিএএসসির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার পাশাপাশি পর্যটন মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যাতে নৌপুলিশের মাধ্যমে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, সমুদ্রের বিস্তৃত এলাকায় লাইটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্থলভাগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং, যেখানে অনুপ্রবেশ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় নজরদারি বজায় রাখা কঠিন।

কোটি টাকা মূল্যের এই লাইটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চুরির নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন এবং পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এখন বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইকাও অডিটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই চুরি বিমানবন্দরের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin