ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত শুক্রবার সংঘটিত এসব দুর্ঘটনায় ফরিদপুরে মা-ছেলেসহ পাঁচজন, গাজীপুরের কালীগঞ্জে দুজন, কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুজন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুজন এবং মাদারীপুরে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কের কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যান পুলিশ সদস্যদের এবং বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে ধাক্কা দেয়। পুলিশ জানায়, রাতে পৌর এলাকায় টহল এবং ওয়ারেন্ট তামিল করার সময় পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। এ সময় কাভার্ডভ্যানটি তাদের ধাক্কা দিলে এসআই মিজানুর রহমান গাড়িটির সঙ্গে আটকে যান। চালক তাকে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক রফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানও মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনার কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস ও সবজিবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন টেকনাফের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৭) ও চকরিয়ার মোহাম্মদ ইয়াছিন (২৬)। মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই সেলিম মিয়া জানিয়েছেন, কক্সবাজারমুখী শ্যামলী পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী পিকআপের সংঘর্ষে পিকআপের কেবিন দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা দুই যুবক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করেছে।
ফরিদপুরে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সদর উপজেলার কানাইপুরের তেঁতুলতলায় বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষের পর ট্রাকটি উল্টে প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের ওপর পড়ে। এতে মা সুমি বেগম (৩২) ও ছেলে শাওন (৭) ঘটনাস্থলেই মারা যান। সুমির স্বামী পলাশ গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া মধুখালীতে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। করিমপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, বেলা তিনটার দিকে ঢাকাগামী কিংফিশার পরিবহনের বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা তিনজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। বাসের কোনো যাত্রী হতাহত হননি।





