আগামী ২৭শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে ট্রাম্পের এই সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তিনি বর্তমানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘শক্তিশালী, সাহসী ও মেধাবী’ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এর আগে টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। এমনকি বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে মতবিরোধের খবরও পাওয়া গিয়েছিল। গত জুনে লেবাননে ইসরাইলি হামলার ঘটনায় ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করেছিলেন এবং টেলিফোনে নেতানিয়াহুকে ‘বদ্ধ উন্মাদ’ বলে গালি দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। এছাড়া এপ্রিলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে তিনি নেতানিয়াহুকে লেবাননে আর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে এক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি সবসময়ই নেতানিয়াহুকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন এবং শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি জোট বর্তমানে বিরোধী নেতা গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন ‘যাশার’ পার্টির জোটের কাছে ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ ইসরাইলের ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, যা তিনি করতে আগ্রহী নন।
ট্রাম্পের এই সমর্থনের প্রতিক্রিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান ইরান সরকারের পতন হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমে আসবে, তবে তা কেবল ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলেই সম্ভব।





