যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর দুই মাসেরও কম সময় বাকি। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের হার রেকর্ড ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নীতির ওপর আক্রমণ, অর্থনীতির দুরবস্থা, ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং নিজের ও পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে। জরিপে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ‘খুব শক্তিশালী’ বলে মনে করেন এবং ৬৮ শতাংশ ভোটার ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। এসব তথ্যে মনে হতে পারে ডেমোক্র্যাটরা বড় জয় পেতে যাচ্ছেন, কিন্তু অভিবাসন নিয়ে তাঁদের দুর্বল অবস্থান জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর উত্থানে কেবল অভিবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধিই দায়ী নয়, বরং এর কারণে সৃষ্ট সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগই ভোটারদের প্রভাবিত করে। ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা অভিবাসনকে জাতীয় পরিচয় ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে নিজেদের রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। মূলধারার দলগুলো সাধারণত এই ইস্যু উপেক্ষা করে অথবা ডানপন্থীদের অনুকরণ করে, যার কোনোটিই কার্যকর নয়। এর পরিবর্তে ডানপন্থীদের বক্তব্যের সরাসরি পাল্টা বয়ান তৈরি করা বেশি ফলপ্রসূ।
গবেষকদের পরীক্ষামূলক জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তাদের অন্তর্ভুক্তির দীর্ঘ ঐতিহ্য তুলে ধরলে ভোটারদের ভীতি অনেকাংশেই কমে। এই পাল্টা বয়ানগুলো চাকরি হারানো, ইউরোপীয় পরিচয় হারানোর ভয় এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি—এই তিন ধরনের উদ্বেগ প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এমনকি ‘মাগা’ (MAGA) এবং ‘নন-মাগা’ উভয় ধরনের রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেই এই প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে এই কৌশল কার্যকর হতে পারে।
বর্তমানে ডেমোক্র্যাটরা মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে হলে তাঁদের অভিবাসন নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। রিপাবলিকানদের চরম ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিপরীতে কার্যকর পাল্টা বয়ান তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য উপায়ে অভিবাসন ইস্যু তুলে ধরলে ডেমোক্র্যাটরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।





