চুয়েটে ২৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ নতুন উপাচার্য, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-পানি

Published: October 13, 2026, 5:44 am

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন এবং ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি ভবন থেকে বের হতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা ফটকের তালা খুলবেন না।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ ও ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আন্দোলনের কারণে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না, তবে গতকাল ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় তিনি ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেন।

উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যকে কার্যালয় ত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেন এবং নির্ধারিত সময় শেষে দুপুর ১২টার দিকে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বর্তমানে উপাচার্যসহ ১০-১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রয়েছেন, যাদের মধ্যে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ এবং কিছু প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীও রয়েছেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, 'আমার সঙ্গে চারজন অ্যালামনাই আছেন। একজন আমার বন্ধু, দুজন বড় ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রও আছে ৬-৭ জন। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু আমি দপ্তরে এলাম নয়টায়, এর দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেওয়াটা অমানবিক।' তিনি আরও জানান যে তার কাছে শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি নেই এবং দাবি থাকলে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের মাধ্যমে পাঠানো খাবার খেয়েছেন জানিয়ে উপাচার্য বলেন, 'আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা, তাই রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে।'

আন্দোলনরত তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান বলেন, 'তিনি পদত্যাগ করলেই আমরা তালা খুলে দেব। তখন তিনি সসম্মানে যেতে পারবেন।' এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ জানিয়েছেন, তারা তাদের অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo