মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহারের অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এই অভিযানে মোট ৩৪১টি বিদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬৫টিই বাংলাদেশি পাসপোর্ট। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দেশটির তামান দাতুক আহমাদ রাজালি এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৩ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে। আটককৃতদের মধ্যে চক্রটির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই বাংলাদেশি পুরুষ ও ছয়জন স্থানীয় নারী কর্মী রয়েছেন। এছাড়া ১২ জন বিদেশি ‘গ্রাহক’ রয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন বাংলাদেশি পুরুষ এবং তিনজন ইন্দোনেশীয় নারী।
দেশটির অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগ এই অভিযান পরিচালনা করে। এতে মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অংশ নেন। মূলত জনসাধারণের দেওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদিত কোটা ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করছিল। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠান অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাসের (পিএলকেএস) আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন পেয়ে শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। কিন্তু তাদের মূল নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানে কাজ না দিয়ে, অর্থের বিনিময়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হতো। এছাড়া কোটা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও পরিচিতির সঙ্গে মিল নেই—এমন ভুয়া তথ্য জমা দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে কর্মীরা কোটা পেয়েছিলেন, তারা সেখানে কর্মরত ছিলেন না। বরং তারা অন্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করছিলেন। জাকারিয়া শাবান জানান, এই অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে চক্রটি প্রতি কর্মী বাবদ ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত পর্যন্ত মুনাফা করত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি চক্রটির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রকৃত আর্থিক হিসাবের তুলনায় কম মুনাফা দেখিয়েছে এবং ২০২০ থেকে ২০২৩ করবর্ষে ব্যক্তিগত আয় ঘোষণা করেনি।
অভিযানের সময় বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ৩৪১টি পাসপোর্টের মধ্যে বাংলাদেশের ২৬৫টি, ইন্দোনেশিয়ার ৬৩টি, পাকিস্তানের ১২টি এবং ভারতের ১টি পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত বলে সন্দেহ করা নগদ ৬ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিতও জব্দ করা হয়েছে।





