ইরানে তিন দিনের ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা পেন্টাগনের, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা

Published: October 9, 2026, 12:42 pm

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার লক্ষ্য করে টানা তিন দিন ব্যাপক হামলার একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ড সেন্টারগুলোতেও আঘাত হানা হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই সামরিক পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই হামলার পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান কিংবা ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য ট্রাম্পের কাছে এটি নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো পরিকল্পনা পেশ করা হলো। এর আগের পাঁচটি পরিকল্পনাই তিনি নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্র ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরান সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সীমিত আকারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত অনেকটাই পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এসব অস্ত্রের ভাণ্ডার ধ্বংস করা। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি স্থাপনা ও আইআরজিসির কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম ওই অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন হতে যাচ্ছে। ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন রণতরি বহরটি ইতিমধ্যে মার্কিন উপকূল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যেখানে আগে থেকেই দুটি বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে।

অবশ্য ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন ইরানে কোনো হামলা চালাবে না। সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনের অমিল দেখা গেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরাইলকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন, যার সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক কিছুদিন আগেই শেষ হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin