মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব আবুল কাশেমের পারিবারিক কবরস্থানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার কাজীপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজীপুরা গোরস্থানের জন্য আবুল কাশেম ও তার পরিবার ৩৯ শতাংশ জমি দান করেছিলেন এবং আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছিলেন। তাদের এই অবদানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তৎকালীন গোরস্থান পরিচালনা কমিটি তিন শতাংশ জায়গা তাদের পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেয়। ওই জায়গার চারপাশে স্টিলের বেড়া দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত আবুল কাশেমসহ তার পরিবারের সদস্যদের সমাহিত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সুইজারল্যান্ড প্রবাসী শাহাদাত হোসেন নামে এক ব্যক্তি গত দুই বছর ধরে এই তিন শতাংশ জায়গা নিয়ে বিরোধিতা করে আসছিলেন এবং ইতিপূর্বে কয়েকবার বেড়া কেটে ফেলার হুমকিও দিয়েছিলেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কাজীপুরা ঈদগাহ ও কবরস্থান কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শাহাদাত শুক্রবার সকালে একদল লোক নিয়ে এসে স্টিলের বেড়াটি কেটে নিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, দড়িকান্দি গ্রামের মৃত গোলাম মাওলার ছেলে শাহাদাতের নেতৃত্বে একদল লোক এসে এই বেড়া কেটে নিয়ে যায়। বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়, তবে তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কবরস্থানের সীমানার স্টিলের বেড়া কেটে ফেলা হয়েছে, উত্তর পাশের ইট ও রড উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং মাটির বিভিন্ন অংশ খোড়া অবস্থায় রয়েছে।
কবরস্থান কমিটির বর্তমান সভাপতি আহসান উল্লাহ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পূর্বের কমিটি রেজুলেশন করেই জায়গাটি তাদের ব্যবহারের জন্য দিয়েছিল। তিনি শাহাদাতের কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতার দাপট প্রদর্শন বলে অভিহিত করে এর বিচার দাবি করেছেন। মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে সাবেক রাষ্ট্রদূতের ছোট ভাই ও গজারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, যে পরিবার কবরস্থানের জন্য জমি ও অর্থ দান করেছে, আজ তাদের কবরেই ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত শাহাদাতের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ভাতিজা জানান, শাহাদাত ভাটেরচর গেছেন এবং তার মোবাইল নম্বর তাদের কাছে নেই। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্মানের খাতিরে আমরা ৩ শতাংশ জায়গা তাদের পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করে বেড়া দিয়ে দিই।





