সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটে উল্লেখিত নামের সঙ্গে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নামের মিল থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই দুই নামের মধ্যে মিল না থাকলে কোনো যাত্রীকে ট্রেনে চড়তে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সম্প্রতি সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক জানান, সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা অন্য যেকোনো গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য এখন থেকে টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির নামের মিল থাকা আবশ্যক। অভিযানে বেশ কিছু যাত্রীর অনলাইনের টিকিটের নামের সঙ্গে প্রকৃত নামের অমিল পাওয়া গেছে। এ কারণে যাত্রীদের সচেতন হতে তিন থেকে চার দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এই নিয়মটি অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে এবং স্টেশনে নিয়মিত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে এসব টিকিট কালোবাজারিরা চড়া দামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে। এই ভোগান্তি ও সংকট নিরসনে এবং ট্রেন ভ্রমণকে কালোবাজারিমুক্ত করতে নিয়মিত এই তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে টিকিট সংকট ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে গত সেপ্টেম্বরের শেষভাগে স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। ওই মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের টিকিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার পেছনে কালোবাজারি ও মজুতদারির মতো অপরাধ জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার নথিপত্র পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পৌঁছায়। বর্তমানে মামলাটির তদন্তভার পেয়েছেন পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক আবদুল আহাদ। এর আগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগেও কালোবাজারি রোধে নজরদারি শুরু হয়েছিল, তবে কিছুদিন পর তা ঝিমিয়ে পড়ে। টিকিট বিক্রির সার্বিক বিষয়ে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনের টিকিট সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে অথবা সরাসরি কাউন্টার থেকে কিনতে হয়। টিকিট বিক্রির এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা হাত নেই।





