ভারতে স্টারলিংক সেবা চালুর বিলম্ব নিয়ে ‘অলিগার্কদের’ দুষলেন ইলন মাস্ক

Published: October 9, 2026, 9:17 am

ভারতে নিজের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরু হতে দেরি হওয়ার পেছনে দেশটির প্রভাবশালী ধনকুবের বা ‘অলিগার্কদের’ দায়ী করেছেন ইলন মাস্ক। তবে নয়াদিল্লি এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ভারত সরকারের দাবি, স্যাটেলাইট সেবা দেওয়ার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে না।

স্পেসএক্স ও স্টারলিংকের মূল প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ বিষয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভারতের যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি, সেখানে সংযোগ দিতে স্টারলিংকের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে করা একটি পোস্টের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ভারতের ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রাম ফোর-জি নেটওয়ার্কের বাইরে ছিল।

সেই পোস্টের জবাবে মাস্ক লেখেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অলিগার্ক আমাদের আটকে দিচ্ছেন, যাতে ভারতীয় জনগণের ওপর তাঁদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। তারা কারা, তা আপনারা সহজেই অনুমান করতে পারেন।

ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বৈশ্বিক ব্যক্তিগত মোবাইল যোগাযোগসেবা (জিএমপিসিএস) দেওয়ার জন্য স্টারলিংক ছাড়াও আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে। এর একটি হলো ভারতীয় মালিকানাধীন ভরতি গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব, যার মালিক ধনকুবের সুনীল মিত্তাল। অন্যটি রিলায়েন্স জিও-সমর্থিত জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস, যার মালিক ভারতের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি। রিলায়েন্স জিও প্রায় ১ হাজার ৬০০টি লো-আর্থ-অরবিট (এলইও) স্যাটেলাইটের নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা সরাসরি স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী।

মাস্কের এই অভিযোগের জবাবে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লাইসেন্স পাওয়া তিনটি অপারেটরই বর্তমানে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ক্ষেত্রে একই পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে। বৈষম্যের অভিযোগটিকে মন্ত্রণালয় ‘ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণাপ্রসূত’ বলে অভিহিত করেছে। ভারতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর জন্য স্টারলিংক গত চার বছর ধরে অপেক্ষা করছে এবং গত বছরের জুনে তারা টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স পেলেও এখনো নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম (বেতারতরঙ্গ) বরাদ্দ পায়নি।

ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে স্টারলিংকের বিজনেস অপারেশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার জানান, তারা ইতিমধ্যে ভারতে ২০টি গেটওয়ে সাইট তৈরি করেছেন এবং শত শত অ্যান্টেনাও বসিয়েছেন। ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত মেনেই এই নকশা করা হয়েছে। গত মাসে নয়াদিল্লি স্যাটেলাইট স্পেকট্রামের মূল মূল্যকাঠামো অনুমোদন করলেও চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো বাকি।

মজার বিষয় হলো, ইলন মাস্ক যেদিন এই মন্তব্য করেন, সেদিনই প্রতিবেশী বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সঙ্গে যৌথভাবে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হয়। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই আধুনিক প্রযুক্তির সেবা চালু করল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo