হুমায়ূন আহমেদের শৈশবের গল্প দিয়ে কিশোর আলোর ১৩তম জন্মদিন উদযাপন

Published: September 18, 2026, 7:26 am

আগামী ১ অক্টোবর ১৩ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে কিশোরদের অত্যন্ত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’। এই জন্মদিনের আনন্দ পাঠকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কিশোর আলো অনলাইন। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম আলোর প্রকাশিত কিশোরদের নববর্ষ সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করা হবে। এই আয়োজনের প্রথম লেখা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের শৈশবের এক রোমাঞ্চকর স্মৃতি।

হুমায়ূন আহমেদের এই শৈশবস্মৃতিটি মূলত পঞ্চাশ বছর আগের এক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা। সে সময় কাঠের সিন্দুকের ওপর রাখা পাঁচটি চিনামাটির প্লেট একসঙ্গে ভেঙে ফেলায় সারা দিনের জন্য ঘরে বন্দী করা হয়েছিল বালক হুমায়ূনকে। দরিদ্র পরিবারের জন্য সেই প্লেটগুলো ছিল অত্যন্ত মূল্যবান। প্লেট ভাঙার অপরাধে প্রথমে একদফা চড়থাপড় জোটে তাঁর কপালে। এরপর মা ঘোষণা দেন, এখন থেকে বাড়ির সবাই প্লেটে খেলেও অপরাধী বালককে মেঝে পরিষ্কার করে সেখানে ভাত-তরকারি দেওয়া হবে। তবে বড়দের কথা ও কাজের অমিল আগেই বুঝে যাওয়া বালক এই মানসিক শাস্তি নিয়ে মোটেও চিন্তিত ছিল না।

হুমায়ূন আহমেদ বন্দী অবস্থায় ঠিকমতো শাস্তি ভোগ করছেন কি না, তা তাঁর ভাইবোনেরা এবং বাড়ির কাজের ছেলে রফিক মাঝে মাঝেই উঁকি দিয়ে দেখে যাচ্ছিল। শিশুদের শাস্তি পেতে দেখে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেত রফিক। তবে পুকুরে মহানন্দে ঝাঁপাঝাঁপি করার একপর্যায়ে রফিক আবিষ্কার করে যে তার ছাতাটি সঙ্গে নেই। এরপর তার পরবর্তী অভিযান শুরু হয় সেই ছাতা খুঁজে বের করার জন্য।

এদিকে পারিবারিক আদালতের প্রধান বিচারপতি অর্থাৎ বালকের বাবার সামনে যখন অপরাধের পুরো খতিয়ান তুলে ধরা হলো, তিনি তখন কোনো মন্তব্যই করলেন না। উল্টো রেডিওর নব ঘুরিয়ে ‘আকাশবাণী’র নাটক শুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। বালক হুমায়ূন ভাবছিলেন, রেডিওর নব ঘোরানো শেষ হলেই হয়তো তাঁর বড় কোনো শাস্তি হবে। কিন্তু নব ঘোরানো শেষে বাবা উল্টো বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দাঁড়িয়ে আছিস কী জন্য?’ এতে মা রেগে গিয়ে প্রশ্ন করলে বাবা জানতে চান মা কী বলেছেন। সবশেষে মা রেগে চলে যাওয়ার পর বাবা ছেলেকে প্রশ্ন করেন, ‘তোর মা কি রাগ করে উঠে চলে গেল?’

২০১২ সালের সেই নববর্ষ সংখ্যাটি ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ার পরই মূলত ‘কিশোর আলো’ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সংখ্যায় দেশের প্রখ্যাত সব লেখক লিখেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদের এই স্মৃতিচারণমূলক লেখাটি এর আগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও তাঁর শৈশবকালীন বইয়েও প্রকাশিত হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo