২০০১ সালে প্রকাশিত ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’ বইটি অ্যান কারসনকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। তিনি হয়ে ওঠেন কাব্যগুরু—একজন এমন লেখক, যার মৌলিকতা অনুসরণ করার নয়, আবিষ্কার করার বিষয়। ১৯৫০ সালে কানাডার অন্টারিওতে জন্ম নেওয়া কারসন জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন ক্লাসিকসের অধ্যাপক হিসেবে। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও নাট্যকার। তার লেখা জায়গা পেয়েছে পেঙ্গুইন মডার্ন পোয়েটস সিরিজে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার নতুন বই ‘ফ্লোট’। এই বই ও তার সাহিত্য দর্শন নিয়ে দ্য অবজারভার-এর ফিচার লেখক কেট কেলাওয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন প্রায় নয় বছর আগে।
নিজের নতুন বই ‘ফ্লোট’ সম্পর্কে কারসন জানান, এটি একটি স্বচ্ছ বাক্সে রাখা ২২টি ছোট বইয়ের সমষ্টি। এগুলো পড়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ক্রম নেই, বরং ‘শাফল’ করে পড়তে হয়। তিনি পুরো বইটিকে কোনো জৈবিক বা একক সত্তা হিসেবে ভাবেননি। তার মতে, এটি নিছক একটি সংগ্রহ, যা আগের বইগুলোর মতো কোনো একটানা প্রবাহ তৈরির উদ্দেশ্যে নয়। প্রতিটি লেখারই কোনো না কোনো অংশ তার ভালো লাগে, আবার এমন কিছু লেখাও আছে যার প্রায় পুরোটাই তার প্রিয়।
কবিতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গদ্য যদি একটি বাড়ি হয়, তবে কবিতা হলো সেই বাড়ির ভেতর দিয়ে দ্রুত ছুটে যাওয়া এক জ্বলন্ত মানুষ। কবি হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি জানান, ছোটবেলায় তিনি ছবি আঁকতে বেশি পছন্দ করতেন, কিন্তু তাতে খুব একটা ভালো ছিলেন না। ছবির নিচে শিরোনাম দিতে দিতেই একসময় লেখার দিকে চলে আসেন। তিনি মনে করেন, ছবি ও লেখা মনের দুটি আলাদা পথ, যারা একে অন্যকে সতেজ রাখে।
নিজের শৈশব নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি তিন-চার বছর বয়সে দেখা একটি স্বপ্নের কথা বলেন। স্বপ্নে তিনি দেখেন, বাড়ির ওপরের ঘরে ঘুমানোর পর নিচে নেমে বসার ঘরে দাঁড়িয়েছেন। ঘরটি চেনা, আসবাবপত্র সব আগের জায়গায়, কিন্তু ঘরটি যেন পাগল হয়ে গেছে—সম্পূর্ণ আলাদা এক রূপ নিয়েছে। ক্লাসিকসের অধ্যাপকের জীবন কবির জীবনের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে তিনি কখনো ভাবেননি।
লন্ডন রিভিউ অব বুকস-এ স্টিফেন বার্ট তার সম্পর্কে লিখেছিলেন যে, তিনি কোথাও স্বচ্ছন্দ নন। এর উত্তরে কারসন বলেন, তিনি পানির নিচে নিজেকে পুরোপুরি ঘরের মানুষ মনে করেন। অস্কার ওয়াইল্ডের ভক্ত হিসেবে তিনি সম্প্রতি আর্টঅ্যাঙ্গেলের একটি প্রকল্পে রিডিং কারাগারে অস্কার ওয়াইল্ডের সময়কে স্মরণ করে একজন বন্দির লেখা একটি চিঠি লিখেছিলেন। তবে শিল্পকে তিনি থেরাপি বলে বিশ্বাস করেন না।
সহযোগিতামূলক কাজ শেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সহযোগিতা শেখানো যায় না, শুধু করা যায়। শিক্ষার্থীদের তিনি এমন কাজ দেন যা তাদের একসঙ্গে করতে হয়। ছোটবেলায় ছবি আঁকার সময় থেকেই আগ্নেয়গিরির প্রতি তার মুগ্ধতা শুরু। সচেতনভাবে আবেগী বিষয় খুঁজে বেড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তর্দৃষ্টিই জানার সবচেয়ে গভীর পদ্ধতি। মোনা লিসা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি কখনোই মোনা লিসাকে পছন্দ করেননি, এখনো করেন না। সংক্ষিপ্ততাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া এই কবি বলেন, জীবনকে ব্যাখ্যা না করে তার কয়েকটি শব্দ রেখে চলে যাওয়াই সংক্ষিপ্ততার শ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা।
প্রশ্ন: আপনার উত্তরগুলো শুনে মনে হচ্ছে, আপনি সংক্ষিপ্ততাকে খুব মূল্য দেন। এটা কি সত্যি? অ্যান কারসন: ‘শর্ট টক অন ব্রেভিটি’—সংক্ষিপ্ততা নিয়ে ছোট্ট কথোপকথন। যত দ্রুত সম্ভব চামড়া ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন—যেমন অ্যালকোহল মাখলে তা দ্রুত উধাও হয়ে যায়। একটি উদাহরণ দিই। এমিলি টেনিসনের দাদির বিয়ের দিনের সম্পূর্ণ ডায়েরি—২০





