চাকরির সুবাদে স্বামী-স্ত্রীকে দেশের দূরবর্তী দুই প্রান্তে বদলি করার ঘটনাকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও খামখেয়ালিপনা হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, স্বামীকে এক জায়গায় রেখে স্ত্রীকে বান্দরবান বা নাইক্ষ্যংছড়ির মতো দুর্গম স্থানে বদলি করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না, কারণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত একটি পরিবারকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়।
রিজভী আরও জানান, বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত স্বামী-স্ত্রীকে কাছাকাছি রাখার নিয়ম থাকলেও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। তিনি শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে তাদের পারিবারিক জীবনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। সম্মেলনে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে অনেক দাবি পূরণ হয়েছে এবং অবশিষ্ট যৌক্তিক দাবিগুলোও প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে বর্ণনা করে রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তবে অতীতে শিক্ষাব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাজনীতিকীকরণের ফলে গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত করেছে। শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং নৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার মাধ্যম উল্লেখ করে তিনি শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ শেখানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এছাড়া শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং মো. জাকির হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





