অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তাসনিমের মৃত্যু

Published: October 8, 2026, 12:01 pm

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তাসনিম ঐশী। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থের কাছে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাসনিম নিহত হয়েছেন। এই একই দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে পার্থ থেকে প্রায় এক ঘণ্টা উত্তরের ব্রেটন বে এলাকায় ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, নিহত তাসনিম ঐশী পার্থের এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটির (ইসিইউ) শিক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় ধূসর রঙের একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির সামনের আসনে বসা ছিলেন তিনি। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ধাক্কার তীব্রতায় গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং তাসনিম গুরুতর আহত অবস্থায় ভেতরেই আটকে পড়েন।

দুর্ঘটনাস্থলটি ঝোপঝাড়ে ঘেরা দুর্গম এলাকা হওয়ায় জরুরি উদ্ধারকারীদের সেখানে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়। তাসনিমকে উদ্ধারের জন্য একটি জরুরি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও পাঠানো হয়েছিল। তবে উদ্ধারকারীদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এই তরুণী।

গাড়িতে থাকা চালকসহ অপর তিন আরোহীও বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন লাবিব, বিপুল ও ঈশিতা। দুর্ঘটনায় তাঁরা আহত হলেও তাঁদের আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুই তরুণকে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়্যাল পার্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যজনকে চিকিৎসার জন্য পার্থ চিলড্রেনস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ এখন পর্যন্ত তাঁদের বয়স কিংবা শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া পুলিশের মেজর ক্রাশ ইনভেস্টিগেশন সেকশন (এমসিআইএস)। চালক কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, গাড়ির গতি কেমন ছিল বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সে সময় ওই সড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলোর ড্যাশক্যাম ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছে।

উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনার পর ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভের কে.ডব্লিউ. রোড থেকে গিনগিন ব্রুক রোড পর্যন্ত দীর্ঘ অংশ উভয় দিকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে কাজ শেষ হলে সড়কটি পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভের এই অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে একাধিক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে ইন্ডিয়ান ওশান ড্রাইভে চলার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্গম ঝোপঝাড় ও ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে জরুরি সেবাকর্মীদের গাড়িটির কাছে পৌঁছাতে হয়। দুর্ঘটনার পর তাসনিম গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছিল

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin