ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা এই আলোচনায় প্রতিদিন ১০০ কোটি ইউরোর বেশি ইইউর বাণিজ্য ঘাটতি এবং চীনের বিরল মাটি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে আরোপিত বিধিনিষেধের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে।
এদিকে ইউরোপের শীর্ষ গাড়ি নির্মাতাদের জন্য চীনা কোম্পানিগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার আগে বেইজিং চীনা হাইব্রিড গাড়ি রপ্তানিতে স্বেচ্ছায় সীমা আরোপের ইইউর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। দুই কূটনীতিকের বরাতে জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় কমিশন এখন চীনের কাছে হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে একতরফাভাবে সীমা আরোপের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাতে পারে।
এই আলোচনার ঠিক আগেই বুধবার ইইউর সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতারা বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যনীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছেন। অন্যদিকে, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ইইউ যদি চীনা কোম্পানি বা পণ্যের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে নিজেদের শিল্প সুরক্ষায় বেইজিং দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মঙ্গলবার জোটটিকে এমন একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিসাধনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। জার্মান কর্মকর্তাদের মতে, ইইউর এমন একটি হাতিয়ার প্রয়োজন যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ৩০১’ শুল্ক কিংবা চীনের খনিজ রপ্তানি বিধিনিষেধের মতোই কার্যকর হবে। আগামী সপ্তাহে ইইউ নেতাদের সম্মেলনে এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। অনুমোদিত হলে ইউরোপীয় কমিশন বাণিজ্যিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কয়েক দিনের মধ্যেই পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারবে। তবে চীন ফ্রান্স ও জার্মানিকে এমন সংরক্ষণবাদী পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।





