মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে তুরস্ক ও পাকিস্তান

Published: October 6, 2026, 3:46 am

ইয়েমেনের হুথিদের হামলা মোকাবিলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ সক্রিয় করতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দেশ তিনটি সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করবে। গত সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে।

গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা অ্যালায়েন্স ফর ডিফেন্স’ নামে এই প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি সই হওয়ার পর এবারই প্রথম তা সক্রিয় করা হলো। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, জোটের কাঠামোর আওতায় হামলা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে কমিটি সম্মত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় তিন দেশ তাদের সংহতি ও ঐক্য পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজ নিজ দেশের আইন ও অনুমোদিত ব্যবস্থার আওতাতেই এই সম্মিলিত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সৌদি আরবে নিশ্চিত করা হবে।

এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী হুতিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান শুরু করে। সৌদি সমর্থিত এই বাহিনী লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা পুনর্দখল এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই অভিযানে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশপথে সহায়তা করছে বলে নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, হুতি গোষ্ঠী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উপকূলীয় রাবিগ শহরের আরামকো শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে। এছাড়া বিমানঘাঁটি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার কথা জানালেও সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা এই প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত সামরিক শক্তির মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সেনাসদস্য, ৩ হাজার ৪০০ যুদ্ধবিমান, ৬ হাজার ট্যাংক এবং ৩৪০টির বেশি নৌযান রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবে ফের হামলা হলে এই চুক্তি কার্যকর হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy