কাউখালীতে ঘর থেকে গৃহবধূর পোশাকহীন মরদেহ উদ্ধার

Published: October 5, 2026, 6:18 am

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় নিজ ঘর থেকে জেসমিন বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূর পোশাকহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জেসমিন ওই গ্রামের আফজাল খানের বড় মেয়ে এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মৃত কেরামত আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি তার ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। তবে শনিবার রাতে তিনি ঘরে একাই ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একজন অটোরিকশাচালকের মাধ্যমে মোবাইলের মিনিট কার্ড কিনে বাড়িতে ফেরেন জেসমিন। পরদিন রোববার সকালে স্বজনেরা দেখতে পান যে ঘরের পেছনের দরজা এবং ছাদের দরজা খোলা রয়েছে। ভেতরে ঢুকে তারা আসবাবপত্র, আলমারি ও ওয়ারড্রবসহ বিভিন্ন মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। জেসমিনকে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ঘরের সামনের কক্ষে গিয়ে তার বিবস্ত্র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। স্বজনদের দাবি, ওই ঘরের মেঝে ভেজা ছিল এবং সেখানে পানি ঢালা অবস্থায় ছিল।

পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ সেখান থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করার পাশাপাশি ছবি ধারণ করে।

স্বজনরা জানান, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর পিরোজপুরের মানিক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে জেসমিনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছিল। তবে কিছুদিন ধরে মানিকের সঙ্গে জেসমিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে শত শত স্থানীয় মানুষ ভিড় করেন। এ সময় নিহতের মা-বাবা, বোনসহ স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

কাউখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সেখানে ধর্ষণ বা গণধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh