যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে নারীদের জন্য বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে দেশটির সরকার। রোববার তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে বহু নারী কালো চাদর পরিহিত অবস্থায় অংশগ্রহণ করেন। ‘জান ফাদা’ বা ‘জীবন উৎসর্গ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটি পরিচালিত হয়।
ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা ডেইলি মেইল ও জর্ডানভিত্তিক রয়্যা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ‘স্যাক্রেড ডিফেন্স উইক’ উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে নারীদের অ্যাসল্ট রাইফেল চালানো, প্রাথমিক চিকিৎসা, গেরিলা কৌশল, কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকা এবং জিপলাইন ব্যবহারের মতো বিষয়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। ইরানজুড়ে ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরোধ ব্যাটালিয়ন গঠনের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, এটি সেই কর্মসূচিরই একটি অংশ। এর আগে গত মে মাসেও তেহরানে বিপ্লবী গার্ডের তত্ত্বাবধানে নারী ও শিশুদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একে-৪৭ রাইফেল চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক মোবিনা নাসিরি জানান, প্রয়োজনে তিনি ও অন্যান্য নারীরা যুদ্ধে যোগ দিতে প্রস্তুত। তবে সমালোচকদের মতে, বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনেও সরকার এসব প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ব্যবহার করতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তেহরানের দাবি, গত জুন মাসে হওয়া সমঝোতার সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মানতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চলমান সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুপক্ষ যদি সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তবে ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী জবাব দেবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ পরিবহন হওয়ায়, এই অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।





