ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মুখে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বি-১ মডেলের এই বোমারু বিমানগুলো ঘাঁটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটির উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, নিরাপত্তার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হলো, তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই ঘাঁটিটি মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গত সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকবার এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছে।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক পুঁতে রাখার পরিকল্পনার সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও তাদের ভ্যান থেকে পেট্রল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি এবং পরদিন তাদের অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে ২৫ বছর বয়সি এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়, যার বিরুদ্ধে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। এই কথিত হামলার পরিকল্পনায় ইরানের ভূমিকা ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দেননি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে বলেছেন, সন্দেহভাজনদের দীর্ঘ সময় নজরদারিতে রাখার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল ইরান।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময়ও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্চ মাসে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক কাজে এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। তবে যুদ্ধের শুরুতে দেশটি এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।





