বাংলাদেশ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়নি ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। আগস্টের শেষ দিকে সিবিএফ-এর একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা পরিদর্শন করেছিল এবং তারা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠকও করেন। অক্টোবরের ৫–৬ তারিখের দিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্রাজিলের মতো একটি বড় দলের সফর আয়োজন করতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা সংস্থান করার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিতে পারেনি। ফলে ভিনিসিয়ুসদের ঢাকা আসার পরিকল্পনাটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
ব্রাজিল দল তাদের এবারের ফিফা উইন্ডোর কার্যক্রম কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলেই শেষ করেছে। এর আগে দলটি অস্ট্রেলিয়ায় দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল। বোলাভিআইপির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মোট ৪৭টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ঘরের মাঠে হয়েছে মাত্র চারটি, আর বাকি ৪৩টি ম্যাচই খেলেছে বিদেশের মাটিতে। অর্থাৎ, ব্রাজিলের খেলা প্রীতি ম্যাচের ৯১.৫ শতাংশই হয়েছে অ্যাওয়ে ম্যাচ। তালিকায় এর পরেই রয়েছে উরুগুয়ে (৮৫.৭ শতাংশ) ও আর্জেন্টিনা (৮০.৫ শতাংশ)।
ব্রাজিলের মতো একটি বৈশ্বিক ফুটবল ব্র্যান্ডকে নিজেদের দেশে নিয়ে আসা যেকোনো আয়োজকের জন্য বড় বাণিজ্যিক সুযোগ। টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও পর্যটনসহ নানা খাত থেকে আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিনিময়ে সিবিএফও বড় অঙ্কের ফি পাওয়ার সুযোগ পায়। উদাহরণস্বরূপ, কলকাতার ম্যাচের জন্য আয়োজকদের প্রায় ৫০ কোটি রুপির বাজেট ছিল বলে জানা যায়, যার মধ্যে ৩৫–৪০ কোটি রুপিই বরাদ্দ ছিল সিবিএফ-এর অ্যাপিয়ারেন্স ফি হিসেবে। এছাড়া প্রায় ৯০ সদস্যের দলের চার্টার্ড ফ্লাইটের খরচ বাবদ আরও প্রায় ৬ কোটি রুপি ব্যয়ের হিসাব ছিল। যদিও এই অঙ্কগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন বা সিবিএফ।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও মূল প্রতিবন্ধকতা ছিল এই বিশাল ব্যয়ভার বহন এবং তা আয় থেকে তুলে আনার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, কুইন্সল্যান্ড সরকার অস্ট্রেলিয়ায় ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে। অর্থাৎ, এই ম্যাচগুলো কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং আয়োজক দেশের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক ইভেন্ট হিসেবে কাজ করে।





