কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা

Published: October 3, 2026, 5:44 am

নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী আইভি লিগভুক্ত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এক জনশুনানিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জবাবদিহি ও সুরক্ষার অভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হয়েছেন। ২০২৪ সালে একটি ভ্রাতৃসংঘের (ফ্র্যাটারনিটি) কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দেওয়ানি মামলা দায়ের এবং ফৌজদারি তদন্ত পুনরায় শুরুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাসেম্বলি আয়োজিত এক জনশুনানিতে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোফিয়া রাইলি সিম বলেন, কর্নেল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ঘাটতির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অর্থবহ যোগাযোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি বেশ কয়েকটি ক্লাসেও অংশ নেননি বলে জানান।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের সদস্যরা ভুক্তভোগী তরুণীকে ধর্ষণের আগে অ্যালকোহল, গাঁজা ও কেটামিন খাইয়ে অচেতন বা শারীরিকভাবে অক্ষম করে ফেলেছিল। এরপর তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত তরুণরা অবশ্য সব ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন। তাদের কেউ কেউ একে সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ক দাবি করেছেন, আবার কেউ কেউ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথাই অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা ঘটনার ব্যাপক তদন্ত করেছে এবং অভিযুক্ত চি ফাই ভ্রাতৃসংঘকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করাসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়নি এবং কাউকে কাউকে প্রবন্ধ লিখে শাস্তি কমানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রবন্ধ লেখাই তাদের দেওয়া একমাত্র শাস্তি ছিল না।

এদিকে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগ করেছেন। স্টুডেন্ট অ্যাসেম্বলির শুনানিতে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ২ হাজার ৩০০ একরের এই বিশাল ক্যাম্পাসে নিজেদের অনিরাপদ বোধ করার কথা জানান। শুনানিতে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়, যেখানে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ, অভিযুক্তদের শাস্তির তথ্য প্রকাশ এবং বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জরিপেও ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ৩৫ শতাংশ স্নাতক পর্যায়ের নারী শিক্ষার্থী জোরপূর্বক বা সম্মতি ছাড়া যৌন সংস্পর্শের শিকার হয়েছেন, যা ২০২১ সালে ছিল ২০ শতাংশ। আগামী সোমবার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এক সমাবেশের ডাক দিয়েছেন, যেখানে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে। জনশুনানিতে পাবলিক পলিসির শিক্ষার্থী জেন ওয়াং বলেন, নিজের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াটি তার মানসিক যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin