প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ৪৩আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ২৬। নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য পরিচিত ট্রেন এখন অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনগুলোতে যাত্রীবেশে উঠে ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিচ্ছে। ছিনতাইকারীদের বাধা দিলে অনেক সময় যাত্রীদের চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করছেন বা প্রাণ হারাচ্ছেন। এসব অপরাধীর প্রায় ৮০ শতাংশই মাদকাসক্ত এবং অপরাধের পরপরই তারা নিকটস্থ স্টেশনে নেমে আত্মগোপন করে।
গত চার বছর আট মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে ট্রেনে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় মোট ৩,১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৭৮৬টি, ২০২৩ সালে ৬৩৯টি, ২০২৪ সালে ৬৪৫টি, ২০২৫ সালে ৮৫১টি এবং চলতি বছরের গত আট মাসে ২৫০টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া গত চার বছরে ট্রেনে চুরির ঘটনা ৭০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু নৃশংস ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ মে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে ছুরিকাঘাতে আহত হন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ওমর ফারুক শাওন। ৪ মে ইব্রাহিম নামে এক যুবক মালিবাগ এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ৮ জুন বনানীতে স্কুলশিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলামকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ২০ জুন তেজগাঁওয়ে তোফায়েল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী আইফোন ছিনতাইয়ের সময় ছুরিকাঘাতের শিকার হন। এছাড়া ১৪ সেপ্টেম্বর সাজিদ নামে এক যুবককে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর হাফিজুর রহমান নামে এক যুবককে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়, যেখানে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।
রেলওয়ে পুলিশের বর্তমান জনবল ২,৪৯৩ জন, যা দিয়ে ২৪টি থানা ও ৩৩টি ফাঁড়ির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা জানিয়েছেন, ট্রেনে গার্ড ডিউটি ও প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধবিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল হক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি রেলব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক করার পরামর্শ দিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, অপরাধ দমনে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা চলছে। প্রতিটি স্টেশনে এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ট্রেন থেকে অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হয়। এছাড়া অপরাধীদের ডেটা বা ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম আপডেট করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে, যাতে জামিনে বের হওয়া অপরাধীদের বর্তমান অবস্থান ও মামলার সর্বশেষ অবস্থা ট্র্যাক করা সম্ভব হয়।





