ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় অতিরিক্ত দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক সপ্তাহে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো পাঠানো হয়েছে বলে দুই মার্কিন ও এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান শুরু করলে মিত্র দেশ দুটির তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো রক্ষায় ওয়াশিংটন পাশে থাকবে—এমন আশ্বাস দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। তার ভাষায়, ‘ইরান চুক্তিতে সই করবে, নাকি দেশটি আর থাকবে না এখন আমাকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
এর আগে গত আগস্টে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোসহ বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ওই সময় সৌদি আরব ও কাতারের নেতারা ট্রাম্পকে হামলা না চালানোর জন্য চাপ দেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হেনে দেশ দুটির তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত করতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মিত্রদের এই আশঙ্কাই ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তিনি সামরিক হামলার পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত মাসে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা রক্ষায় একটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠানো হয়। একই সময়ে কাতারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা সুরক্ষায় আরেকটি ব্যাটারি মোতায়েন করা হয়। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে হলে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রিয়াদ সেই অনুমতি দিতে অনাগ্রহী হতে পারে। এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি ও এর ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য আঞ্চলিক কমান্ড থেকেও প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি ও ইন্টারসেপ্টর সরিয়ে আনছে, যা অন্য এলাকাগুলোর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত রোববার সান দিয়েগো থেকে নীরবে যাত্রা শুরু করেছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, যা নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে পৌঁছাতে পারে। এটি ওই অঞ্চলে আগে থেকে মোতায়েন থাকা ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং জাপান থেকে পাঠানো ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের উপস্থিতি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রুজভেল্ট কোনো বর্তমান ক্যারিয়ারকে প্রতিস্থাপন করবে নাকি অতিরিক্ত শক্তি হিসেবে যুক্ত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়。
এছাড়া, গত সোমবার তিনটি উভচর জাহাজ এবং ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের কয়েক হাজার মেরিন সেনা নিয়ে গঠিত মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ এই বহরটি পৌঁছালে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে।





