সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে পাইলট, ক্রু ও যাত্রীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। ওমানের আকাশসীমায় থাকাকালীন উড়োজাহাজের সহ-পাইলট হঠাৎ প্রধান পাইলট স্মিথ মছারকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। ধারণা করা হচ্ছে, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকলেও স্মিথ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ককপিটের দরজা খোলার সুইচ টিপে দেন। এর ফলে ক্রু ও যাত্রীরা ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন।
হামলার পরপরই উড়োজাহাজটি ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট বা ৪ হাজার ২৬৭ মিটার নিচে নেমে আসে, যা যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে। উড়োজাহাজটিতে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় স্মিথের এই পদক্ষেপকে ‘নায়কোচিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক্সে দেওয়া পোস্টে স্মিথের অসীম সাহসের প্রশংসা করে লিখেছেন, ভয়াবহ বিপদের মুখে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি অসীম সাহস ও অন্যদের জীবন রক্ষায় দৃঢ়সংকল্প দেখিয়েছেন। নেতানিয়াহুও তার পোস্টে স্মিথকে ‘নায়ক’ উল্লেখ করে জানান, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি লড়াই করেছেন এবং হামলাকারীকে প্রতিহত করেছেন।
ঘটনার সময় ককপিটে প্রবেশ করা যাত্রীদের মধ্যে পাইপমিস্ত্রি ইয়ানিভ হায়ুন এবং দন্তচিকিৎসক শোতা মুসায়েভ অন্যতম। শোতা মুসায়েভ সিএনএনকে জানান, তিনি যখন ককপিটে পৌঁছান, তখন হামলাকারী স্মিথের ওপর বসে ছুরিকাঘাত করছিলেন। স্মিথের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল, তার মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গভীর ক্ষত ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। শোতা জানান, তারা যদি আরও কয়েক মুহূর্ত দেরি করতেন, তবে হয়তো স্মিথকে হারাতেন। পরে যাত্রীরা হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপ-টাই ব্যবহার করে হামলাকারীকে বেঁধে ফেলেন। ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণের হাতল ধরে উড়োজাহাজটিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে উড়োজাহাজটিতে থাকা অন্য দুই পাইলট, যারা সেই মুহূর্তে দায়িত্বে ছিলেন না, তারা ককপিটে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নেন। জানা গেছে, ওই দুজন ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত, যাদের একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং অন্যজন দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। তারা নিরাপদে উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। স্মিথ মছার বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। হামলাকারীকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এছাড়া ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীদের ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরায়েল সামরিক উড়োজাহাজ পাঠাতে চাইলেও সৌদি আরব তা প্রত্যাখ্যান করে।





