যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার কথিত ষড়যন্ত্রে ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ঘটনাটি একটি অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর বিষয় এবং এ নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। বুধবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জানিয়েছেন, এই কথিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রে ‘স্পষ্টতই একটি বিদেশি পক্ষের হাত’ ছিল। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার ফক্স নিউজকে জানান, ইসরায়েলই এই হামলার তথ্য ব্রিটেনকে দিয়েছিল। তার দাবি, ইরান পৃষ্ঠপোষকতায় একটি হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।
তবে ইরান এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ জল্পনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাজ্য ‘ভুল জায়গায়’ অপরাধীদের খুঁজছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার ভোরে, যখন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই পাঁচজনই লন্ডন এলাকার বাসিন্দা এবং ব্রিটিশ নাগরিক। তবে তাদের ব্যবহৃত তিনটি ভ্যানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হলেও পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই জামিনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও বার্নহাম এর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি জানান, সন্দেহভাজনদের ওপর ‘কঠোরতম’ জামিনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং তাদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের যানবাহন থেকে বিস্ফোরক না মিললেও কিছু পরিমাণ পেট্রল উদ্ধার করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার আগে এক সন্দেহভাজন নিজেই ৯৯৯ নম্বরে জরুরি ফোন করেছিলেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয় এক নারী কৃষক মুখোশ পরা কয়েকজনকে তিনটি সাদা ভ্যানের পাশে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। তবে কেন ওই সন্দেহভাজন নিজেই ফোন করেছিলেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় এই ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের কাছেই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বার্নহাম জানিয়েছেন, তদন্তে ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।





