মাল্টায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির এক নেতার বিরুদ্ধে পাঁচজনকে মানবপাচার এবং অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ৪০ বছর বয়সী অভিযুক্ত নাজমুল ইসতিয়াক মাল্টার মেলিয়েহায় বসবাস করেন এবং সেখানে 'পিংক গার্লিক' নামে একটি রেস্তোরাঁর মালিক। টাইমস অব মাল্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বাংলাদেশি নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতে দেশটির পুলিশ তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।
অভিযোগকারী ব্যক্তি পুলিশকে জানান, নাজমুল তাকে বৈধ চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মাল্টায় নিয়ে আসেন। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাকে বিনা পারিশ্রমিকে নাজমুলের রেস্তোরাঁয় কাজ করতে বাধ্য করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, এই শোষণ আড়াল করার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছিল। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেখানে ভুক্তভোগী নিজেই তিন মাসের বিনা বেতনের ছুটিতে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ আরও চারজন ভুক্তভোগীর সন্ধান পায়, যারা একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, কর্মীদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হতো যে, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে তাদের মাল্টা থেকে বহিষ্কার করা হবে। পুলিশের ধারণা, আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী হয়তো ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ নাজমুলের রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর অসুস্থতা বোধ করায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তবে চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পাওয়ার পর বুধবার তাকে সরাসরি আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তি দেয় যে, জামিনে মুক্তি পেলে অভিযুক্ত সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখাতে পারেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ ইলেকট্রনিক নজরদারি ও সুরক্ষা আদেশের শর্তে জামিন আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাল্টায় বাংলাদেশি কমিউনিটির এক নেতার বিরুদ্ধে পাঁচজনকে মানবপাচার এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটির আদালত অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টাইমস অব মাল্টার অনলাইন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।





