অর্থায়ন সংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর জরুরি সহায়তা বন্ধের ঝুঁকি

Published: September 30, 2026, 3:47 am

দাতারা ব্যাপক হারে অর্থায়ন কাটছাঁট করায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তার দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমবর্ধমান ঘাটতির কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং রাষ্ট্রহীনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তারা ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অনুদান পেয়েছিল, যা ২০২৫ সালে কমে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। অথচ বর্তমানে সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। চলতি বছর শরণার্থীদের সুরক্ষার জন্য সংস্থাটির অন্তত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু জুলাই মাস পর্যন্ত তারা এর মাত্র ৩২ শতাংশ বা ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছে। এই তহবিল ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ওপর।

সংস্থাটির মতে, তহবিল কাটছাঁট অব্যাহত থাকায় বিশ্বের প্রধান শরণার্থী এলাকাগুলোতে সহায়তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইউএনএইচসিআরের এক্সটারনাল রিলেশনস প্রধান ডমিনিক হাইড এ বিষয়ে বলেন, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের নিচে নেমে গেলে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এর ফলে শুধু যে কম মানুষ সেবা পায় তা নয়, বরং সেবামূলক কার্যক্রমগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ, যার মধ্যে ৩ কোটি ৫৬ লাখ শরণার্থী সরাসরি ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশই ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও সুদানের নাগরিক। অর্থায়ন সংকুচিত হওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে ইউএনএইচসিআর ২০২৫ সালে তাদের মোট জনবলের এক-চতুর্থাংশের বেশি বা প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। বিশ্বের প্রধান দাতা দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বড় দাতা দেশগুলোও বর্তমানে তাদের বৈদেশিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh