ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে আসাম থেকে ঢাকায় আসছে মিথানলের চালান

Published: September 29, 2026, 3:58 am

ভারতের আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএল) উৎপাদিত এই মিথানল ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে সরাসরি জলপথে ঢাকায় পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের দাবি অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশে এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন।

এই মিথানল পরিবহনের জন্য দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে ২৭টি করে কনটেইনার থাকবে এবং প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন মিথানল বহন করা হবে। সেই হিসেবে একটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন করা সম্ভব হবে। বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত হয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিতে হবে, যার জন্য প্রায় সাত দিন সময় লাগবে।

এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। এপিএল সেগুলো লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে এনে সংস্কার ও মেরামত করে বাণিজ্যিক চলাচলের উপযোগী করেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের জন্য বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (আইডব্লিউটি) টার্মিনালটিও প্রায় প্রস্তুত। সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা, আধুনিক জেটি ও গুদাম তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সামগ্রিক নজরদারি ও সহায়তার জন্য একটি লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আসামের শিল্প ও কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ নদীপথে পণ্য পরিবহন সড়ক ও রেলপথের তুলনায় সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh