জোহানেসবার্গে আতঙ্ক: ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে সিরিয়াল কিলার?

Published: September 28, 2026, 8:33 am

দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় একুরহুলেনি পৌরসভার একটি খোলা মাঠে রোববার দুপুরে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই এলাকায় টহলরত একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি জানিয়েছেন, নিহত ওই নারীর পরিচয়, বয়স কিংবা মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর মাত্র একদিন আগে, শনিবার একই পৌরসভার একটি কবরস্থানের কাছে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান টমি মথোমবেনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারীকে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ধারাবাহিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে এ পর্যন্ত জোহানেসবার্গের আশপাশে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। এর মধ্যে গত জুলাই ও আগস্ট মাসে একুরহুলেনির ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি মরদেহ এবং চলতি মাসের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আরও ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবারের ঘটনার আগে উদ্ধার হওয়া সব নারীর বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল এবং তাদের কয়েকজনের মরদেহ আংশিক বা সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। জুলাইয়ের মাঝামাঝি উদ্ধার হওয়া প্রথম ভুক্তভোগীকে বৈদ্যুতিক তারের বন্ধনী দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় একজন প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি।

একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান মথোমবেনি জানিয়েছেন, কিছু হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মিল থাকলেও সবগুলো ঘটনার সঙ্গে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত—এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম মরদেহের ঘটনাটি তদন্তকারীরা বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখছেন এবং এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ওই ঘটনার পেছনে সম্পর্কসংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হার বিশ্বজুড়ে অন্যতম সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন নারী হত্যার শিকার হন। ধারাবাহিক এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার সময় তিনি বলেন, নারীদের এই হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষদের জন্য লজ্জাজনক। পুলিশ বর্তমানে তদন্ত জোরদার করেছে, তবে ১১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কতগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy