বিএনপির সংস্কারবিরোধী অবস্থানই বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণ: হাসনাত আবদুল্লাহ

Published: September 27, 2026, 10:50 am

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল ও জননিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সমালোচনা করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির সংস্কারবিরোধী অবস্থানই আজকের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মূল কারণ। তিনি বলেন, সংস্কারের বিরোধিতা করে দলটি মূলত একটি অকার্যকর ও ফিটনেসবিহীন রাষ্ট্রব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। তার অভিযোগ, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা তারেক রহমানকে এই জরাজীর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থার ড্রাইভিং সিটে বসতে প্ররোচিত করেছেন এবং সংস্কারের পথে বাঁধার প্রাচীর তৈরি করেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষ্যমতে, বিএনপি গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুদক ও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোতে বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি আদর্শ নাগরিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা, কিন্তু বিএনপি তারেক রহমানকে এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থার দায়িত্ব দিয়েছে যা কেবল ব্যর্থতাই বয়ে আনছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের সংস্কারবিরোধী রাষ্ট্রকাঠামোতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কোনো স্থান নেই। এর ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থায় মাদক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পরিবারতন্ত্র, মাফিয়াতন্ত্র ও বিচারহীনতা জেঁকে বসেছে। এনসিপি নেতা দাবি করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় মন্ত্রীপুত্ররা বড় ঠিকাদার হয়ে উঠছেন এবং জবাবদিহিতা ছাড়া মেগাপ্রজেক্টে দুর্নীতি চলছে।

হাসনাত আবদুল্লাহর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তারেক রহমানের এই সংস্কারবিমুখ রাজনীতি জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তার ভাষায়, অযোগ্য দলীয় কর্মীদের দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল করা হচ্ছে এবং বর্বরোচিত কায়দায় হাসপাতাল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ভঙ্গুর সিস্টেম এবং সংস্কার বিমুখতা শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনবে, কারণ তারা তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ভঙ্গ করেছে এবং প্রতিশ্রুত সময়ের সাথে প্রতারণা করেছে।

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৪৫আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৪৬

হাসনাত আবদুল্লাহ আরো লেখেন, অথচ সালমান মুক্তাদিরের মতো তরুণরা যে প্রজন্মের পাইয়োনিয়র, তারা জুলাইয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল কেবল ক্ষমতার হাত বদল দেখার জন্য নয়৷ বরং পুনর্গঠন ও সংস্কারের মাধ্যমে আদর্শ নাগরিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা ছিলো জুলাই অভ্যুত্থানের মূল নিয়ামক।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh