কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় তদবির, আট জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মী আটক

Published: September 27, 2026, 2:42 am

কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার এক কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে জামায়াত ও বিএনপির আটজন নেতাকর্মী পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই কৃষক লীগ নেতা হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। হাফিজুর রহমান চিথলিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মিরপুর থানায় নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির আট নেতাকর্মী থানায় উপস্থিত হন। তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের কাছে হাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদেরও আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি কর্মী মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।

শনিবার দুপুরে মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের নিজ নিজ দলের দায়িত্বশীল নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, যারা থানায় গিয়েছিলেন তারা দলের সমর্থক। তবে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম জানান, সিরাজুল ইসলাম প্রতিবেশী হিসেবে থানায় গিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, হাফিজুর রহমান ফ্যাসিস্ট আমলে আওয়ামী লীগের সমর্থক থাকলেও পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের মতোই চলাচল করতেন এবং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, নাশকতার মামলার আসামিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা বারবার তদবির করতে থাকেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy