অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এআই এজেন্টের সাইবার হামলা

Published: September 25, 2026, 10:31 am

অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ারে স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের মাধ্যমে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অস্ট্রেলিয়া এই তথ্য প্রকাশ করে এবং দাবি করে যে এটি বিশ্বে এ ধরনের প্রথম ঘটনা। হামলায় কিছু ব্যক্তিগত তথ্য হাতানো হলেও কোনো সংবেদনশীল তথ্য চুরি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি গত জুনে ঘটলেও এআই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই আগস্টে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে এই সাইবার হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মাধ্যমে নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার জন্য ব্যবহৃত ই-মেইল ঠিকানায় বার্তা পাঠিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সরকারি সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যালাস্টেয়ার ম্যাকগিবন বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টের মাধ্যমে আরও কয়েকটি সরকারি সংস্থায় একই ধরনের হামলার আভাস পাওয়া গেছে, যদিও অনেক ক্ষেত্রে সরকারগুলো তা প্রকাশ্যে আনতে চায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়া সরকার সর্বোচ্চ প্রচারের জন্য এই ঘটনাটি প্রকাশের সময় বেছে নিয়েছে। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ঝুঁকি গবেষক মাইকেল নোয়েটেল এটিকে ভবিষ্যতের বড় ঝুঁকির সতর্কসংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এবং নিজের চরম উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। অল্টম্যান ওপেনএআইয়ের কিছু প্রটোকলে সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এআই নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই খাতের সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছেন।

যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস এই ঘটনাকে অনিয়ন্ত্রিত শিল্পের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন আচরণ অস্ট্রেলিয়ায় গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার আইন নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy