জরায়ুর টিউমার বা ফাইব্রয়েড: যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে চলা বিপদজনক

Published: September 21, 2026, 8:32 pm

অধিক বয়সে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নারীরা প্রায়ই নানা জটিলতার মুখোমুখি হন, যার অন্যতম একটি কারণ জরায়ুর টিউমার। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ফাইব্রয়েডস বলা হয়। সচরাচর ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের জরায়ুতে এ ধরনের টিউমারের উপস্থিতি দেখা যায়। জরায়ুর কোথায় টিউমারটি তৈরি হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে একে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। জরায়ুর দেওয়ালের বাইরের দিকে তৈরি হলে তাকে সাবসেরাস, দেওয়ালের ভেতরে হলে ইন্ট্রামিউরাল এবং ঋতুস্রাবের জন্য দায়ী জরায়ুর অংশে তৈরি হলে তাকে সাব-মিউকাস ফাইব্রয়েড বলা হয়। সাধারণত অধিকাংশ নারী সাব-মিউকাস ফাইব্রয়েডসে আক্রান্ত হন, যা ঋতুস্রাবের সময় তীব্র ব্যথার অন্যতম কারণ। এর ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণ ও ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

ফাইব্রয়েডের উপসর্গগুলো অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। অনেকে ঋতুস্রাবের সময় ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে পেইনকিলার খেয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন, যা বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। এছাড়া হঠাৎ পেট ফুলে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবের হার বেড়ে যাওয়া বা প্রস্রাবের সময় তীব্র যন্ত্রণা এবং তলপেটে ব্যথা হওয়া এই রোগের লক্ষণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে জরায়ুর ফাইব্রয়েডের কারণে পেটের আকার এমনভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাত থেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার মতো দেখায়।

জরায়ুর ফাইব্রয়েডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো অজানা। তবে পরিবারে কারো এ ধরনের সমস্যা থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন জরায়ুর আবরণ বা লাইনিংকে উদ্দীপিত করে, যা ফাইব্রয়েড তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই হরমোনগুলো ছোট ফাইব্রয়েডকে আকারে বড় হতে সহায়তা করে, যা সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। ফাইব্রয়েডের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীরে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী রক্তক্ষরণ হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া এটি কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং কারো কারো ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা একান্ত জরুরি।

আবার অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৭-৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বার জরায়ুর আকার যেমন হয়, এক্ষেত্রে পেটের আকার তেমনই হয়ে যায়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy