জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঁচদিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। রোববার সকালে ঢাকা থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-৭২৫ ফ্লাইটে রওনা হয়ে ইস্তাম্বুল হয়ে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এরপর তাকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম হলো সাত দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এর মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলজ-এমের, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে তার বৈঠকের সূচি নির্ধারিত রয়েছে।
সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ থেকে। সকালের দিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ফার্স্ট লেডি জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেবেন তিনি। ২৩শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলার সভায় বক্তব্য দেবেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক সভায় এবং বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন তিনি।
২৪শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন সকালের উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত ঝুঁকি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে বক্তব্য দেবেন। এছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য বিষয়ক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এদিন বিকেলে সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তিনি ভাষণ দেবেন, যা তার জন্য প্রথম। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আতোনিউ কোস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সূচি রয়েছে।
সফরের শেষদিন ২৫শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে প্রাতঃরাশ বৈঠক করবেন জেপি মরগান সদর দপ্তরে। এছাড়া মেটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৫শে সেপ্টেম্বর রাতে এমিরেটসের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি এবং ২৭শে সেপ্টেম্বর ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।





