নিউজিল্যান্ডের প্রকৃতিপ্রেমীদের ভোটে এ বছরের ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষসেরা পাখি নির্বাচিত হয়েছে অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির ব্ল্যাক রবিন। দেশটির দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দূরে অবস্থিত দুর্গম চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জে এই স্থানীয় পাখিটির আবাসস্থল। এবারের প্রতিযোগিতায় ২৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে এই কালো রবিন।
প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিখ্যাত উড়তে না-পারা তোতাপাখি কাকাপো এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় শিকারি পাখি ক্যারিয়ারিয়া ফ্যালকন। স্বাধীন সংরক্ষণবাদী সংগঠন ‘ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড’ প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা একটি নতুন রেকর্ড। নিউজিল্যান্ডের প্রায় প্রতি ৫০ জন মানুষের একজন এই ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের রেবেকা হ্যাচ।
কালো রবিনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে চ্যাথাম আইল্যান্ডস ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন ট্রাস্ট। পাখিটির আবাসস্থল বাড়ানো এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে তারা বর্তমানে একটি তৃতীয় আবাসস্থল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
গত এক দশকে এই প্রতিযোগিতাটি বেশ কয়েকবার বিতর্কের মুখে পড়েছে। ২০১৯ সালে রাশিয়াভিত্তিক আইপি ঠিকানা থেকে শত শত ভোট জমা হওয়ার প্রেক্ষিতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। তবে ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড সে সময় জানিয়েছিল, ওই ভোটগুলোর বেশিরভাগই ছিল বৈধ এবং এর ফলে বিজয়ী হইহো বা ইয়েলো-আইড পেঙ্গুইনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি। এছাড়া ২০২৩ সালে জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও ‘লাস্ট উইক টুনাইট’-এর উপস্থাপক জন অলিভার প্রকাশ্যে পুটেকেটেকে পাখির পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে এ বছর কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে বলে আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন।





