রাজশাহীতে ২৪ বছর বয়সী রাজহাঁস, পরিবারটির আয়ের প্রধান ভরসা

Published: September 20, 2026, 2:33 am

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রসাদপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের বাড়িতে একটি রাজহাঁস রয়েছে, যার বয়স ২৪ বছর তিন মাস বলে মালিক দাবি করছেন। এলাকায় ‘বুড়ি হাঁস’ নামে পরিচিত এই হাঁসটি জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও দীর্ঘ সময় ধরে টিকে আছে এবং নিয়মিত ডিম ও বাচ্চা দিয়ে পরিবারটির আয়ের বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। সাধারণত আমাদের আবহাওয়ায় রাজহাঁসের গড় আয়ু ১০ থেকে ১২ বছর হয়ে থাকে এবং প্রজননক্ষমতা পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই প্রেক্ষাপটে হাঁসটির দীর্ঘায়ু নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক জালাল উদ্দিন সরদার। তিনি মনে করেন, হাঁসটির জিনগত কোনো ভিন্নতা থাকতে পারে এবং এই হাঁসটি নিয়ে গবেষণা হতে পারে।

রাজহাঁসটি দেখিয়ে রবিউল বলেন, প্রথমে তাঁর বাসায় ৯টি হাঁস ছিল। জন্মগতভাবেই এই হাঁসটির একটি পাখা ওলটানো থাকায় এটি সবার নজর কাড়ে। দীর্ঘ এই ২৪ বছরের জীবনে হাঁসটি তেমন কোনো অসুস্থতায় ভোগেনি। কেবল গত বছর একবার জ্বর ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হলেও ওষুধ সেবনের পর সুস্থ হয়ে ওঠে। আগে বছরে তিনবার করে ৯-১০টা করে ডিম দিত, তবে গত বছর থেকে এটি বছরে দুইবার ডিম দিচ্ছে। হাঁসটি নিজে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। রবিউলের স্ত্রী পারভীন বেগম জানান, হাঁসটির পেট ঝুলে গেছে, যা দীর্ঘ সময় ডিম দেওয়ার কারণেই হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। হাঁসটি বছরে অন্তত ১৫টি বাচ্চা দেয় এবং প্রতিটি বাচ্চা ভালো দামে বিক্রি করা যায়। আগে বাচ্চাগুলো ৩৪ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। গত বছর ১৭টি বাচ্চা উঠলেও সবগুলো মারা গিয়েছিল, যা পরিবারের জন্য বড় ক্ষতি ছিল। তবে হাঁসটিকে বিক্রি বা জবাই না করার সিদ্ধান্তে অটল পরিবারটি।

রবিউল ইসলামের বড় ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, হাঁসটিকে তাঁরা বাড়ির ‘লক্ষ্মী’ মনে করেন এবং এটি যতদিন বাঁচবে, ততদিন তাঁদের কাছেই থাকবে। কৃষিকাজের পাশাপাশি হাঁসটির বাচ্চা বিক্রি করে তাঁদের ভালো আয় হয়। এছাড়া পরিবারের সদস্য মেহেনাজ খাতুন জানান, তাঁর জন্মের পর থেকেই তিনি এই হাঁসটিকে বাড়িতে দেখে আসছেন এবং হাঁসটি তাঁর চেয়ে পাঁচ বছরের বড়। হাঁসটির অসামান্য আয়ু ও টিকে থাকার বিষয়টি এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo